Written By Md. Nasim Billah
সূরা আল-ইখলাস কুরআনের ছোটতম সূরা হলেও তা তাওহীদের সারমর্ম। এই সূরা পড়লেই বান্দা আল্লাহর একত্ব ও বিশুদ্ধ পরিচয় উপলব্ধি করতে পারে। নামাজ ও দোয়ায় এটি নিয়মিত পড়ার ফজিলত অনেক।
১️⃣ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
বাংলা অর্থ: বলো, “তিনি আল্লাহ, এক অদ্বিতীয়।”
প্রশ্ন: আল্লাহ কেন প্রথমেই একত্বের কথা বললেন?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
প্রাচীন আরব সমাজে অনেক দেব-দেবী পূজা হতো।
মানুষ বিভ্রান্ত ছিল যে আল্লাহ এক নাকি একাধিক।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ সরাসরি তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করলেন।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি বিশ্বাসসহ এই আয়াত পড়বে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”
অর্থ: একত্বের স্বীকৃতি ঈমানের মূল ভিত্তি।
আমল/সওয়াব:
নামাজে পাঠ করা।
নিয়মিত দোয়ায় পাঠ করলে কৃতকর্মের সওয়াব।
২️⃣ اللَّهُ الصَّمَدُ
বাংলা অর্থ: আল্লাহ হলো সবকিছুর প্রয়োজনীয়, সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ।
প্রশ্ন: আল্লাহ কেন নিজেকে ‘সামাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
মানুষ আত্মনির্ভরতার ভুল ধারণা পোষণ করত।
আল্লাহর নাম দিয়ে বুঝানো হলো—সকলের আশ্রয় ও সমস্ত সৃষ্টি তার উপর নির্ভরশীল।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন, “যে আল্লাহকে সামাদ হিসেবে জানবে, সে কখনো শূন্যে থাকবে না।”
আমল/সওয়াব:
জীবনের সমস্যায় আল্লাহর কাছে ভরসা রাখা।
দুনিয়ার চাহিদার জন্য আল্লাহর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি।
৩️⃣ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
বাংলা অর্থ: তিনি জন্ম দেননি এবং জন্মগ্রহণও করেননি।
প্রশ্ন: কেন আল্লাহ জন্ম ও সন্তানহীন উল্লেখ করেছেন?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
কুরআন নাজিল হওয়ার সময়ে, পাগল বা অনাস্থাপূর্ণ লোকেরা আল্লাহর সন্তান বা মাতৃত্ব দাবি করত।
আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তিনি স্বতঃসিদ্ধ ও অশেষ, কোনো সৃষ্টির মতো নয়।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন, “যে এই সত্য বিশ্বাস করে, তার ঈমান অটুট থাকে।”
আমল/সওয়াব:
আল্লাহর সঙ্গে তুলনা করা বা শিরক থেকে বিরত থাকা।
প্রতিদিন পড়ার মাধ্যমে বিশ্বাসের দৃঢ়তা বৃদ্ধি।
৪️⃣ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
বাংলা অর্থ: এবং তার সমান কেউ নেই।
প্রশ্ন: কেন আল্লাহর সমান নেই উল্লেখ করা হলো?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
মানুষের ভুল ধারণা—আল্লাহকে অন্য কিছু বা কারো সঙ্গে তুলনা করা।
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—আল্লাহ অনন্য, সমান নেই।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই সূরা বিশ্বাস সহ পড়ে, আল্লাহর সঙ্গে তুলনা বা শিরক থেকে মুক্ত থাকে।”
আমল/সওয়াব:
প্রতিদিন নামাজ ও দোয়ায় পড়া।
শিরক ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে রক্ষা।
সূরা আল-ইখলাসের ফজিলত ও সওয়াব
নবী ﷺ বলেছেন:
“সূরা আল-ইখলাস সমান ১/৩ কুরআনের।” (সহিহ বুখারি)
অর্থ: এই ছোট সূরা পড়ার মাধ্যমে কুরআনের ১/৩ অংশের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
আমল ও ফজিলত সারসংক্ষেপ:
| আমল | ফজিলত / সওয়াব |
|---|---|
| নামাজে পাঠ | ঈমানের দৃঢ়তা, শিরক থেকে মুক্তি |
| প্রতিদিন পাঠ | কুরআনের ১/৩ অংশের সমান সওয়াব |
| অর্থ বুঝে পাঠ | আল্লাহর একত্ব বোঝা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি |
| দোয়া সহ পাঠ | সরাসরি আল্লাহর কাছে পৌঁছানো এবং হেদায়াত প্রাপ্তি |
উপসংহার
সূরা আল-ইখলাস আমাদের শেখায়—
আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়।
আল্লাহর সাথে তুলনা করা যায় না।
তার সঙ্গে শিরক বা ভ্রান্ত বিশ্বাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলস্বরূপ: এই সূরা পড়লে ঈমান দৃঢ় হয়, শিরক দূর হয় এবং আখিরাতে বড় সওয়াব প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।
#সূরা_আলইখলাস #SurahIkhlasBangla #হাদিসের_আলোকে #কুরআন_ব্যাখ্যা #ইসলামিক_ব্লগ #BanglaIslamicContent #নামাজের_সূরা #IslamicBlog
