Wriiten By Md. Nasim Billah
সূরা আল-ফালাক হলো রুকইয়া ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার সূরা, যা শয়তান, জাদু ও খারাপ শক্তি থেকে রক্ষা দেয়। এটি নামাজ ও দৈনন্দিন দোয়ায় পড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
১️⃣ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
বাংলা অর্থ: বলো, “আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, যিনি ভোর বা সকাল ও দিনের শুরু করেছেন।”
প্রশ্ন: কেন আল্লাহকে প্রথমেই ভোর বা দিনের প্রভুরূপে উল্লেখ করা হলো?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
ভোরের আলোর অর্থ হলো নতুন সূচনা ও অন্ধকার থেকে রক্ষা।
মানুষকে শেখানো হলো, দিনের শুরুতেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া দরকার।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি আল-ফালাক পড়ে, তা খারাপ শক্তি থেকে রক্ষা পায়।”
(সহিহ মুসলিম)
আমল/সওয়াব:
প্রতিদিন ভোরে বা যেকোনো সময় পড়া।
শয়তান ও খারাপ প্রভাব থেকে সুরক্ষা।
২️⃣ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
বাংলা অর্থ: সমস্ত সৃষ্টি করা ক্ষতির থেকে।
প্রশ্ন: সব ক্ষতি কারা করতে পারে?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
মানুষ, পশু, প্রকৃতি বা জাদু/দুষ্ট শক্তি থেকে ক্ষতি আসতে পারে।
আল্লাহর আশ্রয় নিয়ে সেই ক্ষতি থেকে রক্ষা চাওয়া।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন:
“প্রতিদিন সূরা আল-ফালাক ও আল-নাস পাঠ করলে কারো খারাপ প্রভাব মানুষে পৌঁছায় না।”
(সহিহ বুখারি)
আমল/সওয়াব:
রোগ, দুষ্ট প্রভাব, জাদু বা শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা।
৩️⃣ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
বাংলা অর্থ: অন্ধকারের ক্ষতি থেকে, যখন তা গভীর হয় বা রাত গভীরভাবে ঢেকে দেয়।
প্রশ্ন: রাতের ক্ষতি কিভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
অন্ধকারে শয়তান, জাদু বা খারাপ শক্তি সক্রিয়।
মানুষ রাতে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া শিখেছে।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি রাতের আগে আল-ফালাক পাঠ করে, সে নিরাপদ থাকে।”
আমল/সওয়াব:
রাতে পড়ার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সুরক্ষা।
৪️⃣ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
বাংলা অর্থ: যারা গোঁড়ায় বা নেকড়ায় (জাদু, কু-প্রভাব) নিশ্বাস/শক্তি প্রয়োগ করে তাদের ক্ষতি থেকে।
প্রশ্ন: জাদু বা ক্ষতিকারক মানুষের প্রভাব থেকে কেন আশ্রয় নেওয়া?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
প্রাচীন আরব সমাজে জাদু প্রচলিত ছিল।
আল্লাহ স্পষ্ট করে দেন—শক্তির উৎস আল্লাহ।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সূরা আল-ফালাক পাঠ করে, তা জাদু ও শয়তানের ক্ষতি থেকে মুক্তি দেয়।”
আমল/সওয়াব:
জাদু, দুষ্ট প্রভাব বা ঈর্ষা থেকে রক্ষা।
৫️⃣ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
বাংলা অর্থ: যে ঈর্ষান্বিত হয়, তার ক্ষতি থেকে।
প্রশ্ন: ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় কেন প্রয়োজন?
কারণ/প্রেক্ষাপট:
মানুষের ঈর্ষা কখনও দুষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে সেই ক্ষতি থেকে রক্ষা।
হাদিস:
নবী ﷺ বলেন:
“যে ব্যক্তি আল-ফালাক ও আল-নাস দুটো নিয়মিত পাঠ করে, সে সব দুষ্ট প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকে।”
(সহিহ মুসলিম)
আমল/সওয়াব:
দৈনন্দিন জীবনে ঈর্ষা বা খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা।
রাত ও দিনে নিয়মিত পড়লে আল্লাহর আশ্রয়।
সূরা আল-ফালাকের ফজিলত ও সওয়াব
| আমল | ফজিলত / সওয়াব |
|---|---|
| নামাজে বা দোয়ায় পাঠ | শয়তান, জাদু ও খারাপ শক্তি থেকে সুরক্ষা |
| প্রতিদিন পাঠ | রোগ ও ক্ষতির প্রভাব থেকে মুক্তি |
| রাতে পড়া | অন্ধকারে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা |
| অর্থ বুঝে পাঠ | আল্লাহর আশ্রয় ও ঈমানের দৃঢ়তা |
| দুটো সূরা (ফালাক + নাস) পাঠ | নবী ﷺ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং সওয়াব |
উপসংহার
সূরা আল-ফালাক আমাদের শেখায়—
সব ক্ষতি ও দুষ্ট শক্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
সূরা নিয়মিত পড়া দৈনন্দিন জীবনে শয়তান, জাদু, খারাপ প্রভাব ও ঈর্ষা থেকে নিরাপত্তা দেয়।
এটি ছোট হলেও সর্বোচ্চ রক্ষা ও সওয়াবের সূরা।
#সূরা_আলফালাক #SurahFalaqBangla #হাদিসের_আলোকে #কুরআন_ব্যাখ্যা #রুকইয়া #BanglaIslamicContent #নামাজের_সূরা #IslamicBlog
