

Written By Md. Nasim Billah
পৃথিবীর কোন দেশে ট্রাফিক জ্যাম প্রায় শূন্য?
ট্রাফিক জ্যাম এখন শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং মানসিক শান্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন অফিস, স্কুল, হাসপাতাল—সবখানেই সময় নষ্ট হচ্ছে রাস্তায়। অথচ পৃথিবীর কিছু দেশে ট্রাফিক জ্যাম প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। প্রশ্ন হলো—কোথায়, কেন, আর আমরা কী শিখতে পারি?
যেসব দেশে ট্রাফিক জ্যাম প্রায় নেই
১) আইসল্যান্ড
আইসল্যান্ডের জনসংখ্যা খুবই কম এবং শহরভিত্তিক চাপও সীমিত। উন্নত গণপরিবহন, পরিষ্কার ট্রাফিক আইন এবং নাগরিকদের শৃঙ্খলাবোধের কারণে সেখানে জ্যাম বলতে গেলে নেই।
২) ফারো দ্বীপপুঞ্জ
ছোট দেশ, কম যানবাহন, পরিকল্পিত সড়ক নেটওয়ার্ক—সব মিলিয়ে যান চলাচল খুবই স্বাভাবিক।
৩) ভুটান (নির্বাচিত শহর ও অঞ্চল)
ভুটান উন্নয়নের পাশাপাশি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বজায় রাখে। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা সীমিত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সরল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এসব দেশে “শূন্য ট্রাফিক” মূলত কম জনসংখ্যা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কঠোর শৃঙ্খলার ফল।
বাংলাদেশে ট্রাফিক জ্যাম কেন এত বেশি?
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
অতিরিক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি
দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থা
ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা
রাস্তা দখল ও অবৈধ পার্কিং
চালক ও পথচারীর সচেতনতার অভাব
এগুলো একসাথে কাজ করে জ্যামকে স্থায়ী সমস্যায় পরিণত করেছে।
বাংলাদেশে ট্রাফিক জ্যাম কমাতে কী করা জরুরি?
১) শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন
মেট্রোরেল, বিআরটি, আধুনিক বাস সার্ভিস—এসবকে সময়মতো, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে হবে। মানুষ যেন ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন বেছে নেয়।
২) ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ
নির্দিষ্ট এলাকায় কংজেশন চার্জ, সীমিত পার্কিং, এক গাড়িতে একাধিক যাত্রী উৎসাহ—এগুলো কার্যকর হতে পারে।
৩) ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে শূন্য সহনশীলতা
আইন আছে, প্রয়োগ নেই—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। ডিজিটাল ফাইন, সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল কার্যকর করতে হবে।
৪) রাস্তা ব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত মুক্ত করা
হকার, অবৈধ পার্কিং ও দখলদারিত্ব সরাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা জরুরি।
৫) অফিস ও স্কুলের সময় ভিন্ন করা
সবাই এক সময়ে বের হলে জ্যাম হবেই। সময় ভাগ করে দিলে চাপ অনেক কমে।
৬) নাগরিক সচেতনতা
ট্রাফিক কেবল পুলিশের দায়িত্ব নয়। লেন মেনে চলা, ভুল জায়গায় ইউ-টার্ন না নেওয়া, ফুটপাত ব্যবহার—এগুলো নাগরিক দায়িত্ব।
বাস্তবতা ও আশার কথা
বাংলাদেশ কখনোই আইসল্যান্ডের মতো কম জনসংখ্যার দেশ হবে না। কিন্তু সিঙ্গাপুর বা টোকিওর মতো শৃঙ্খলিত শহর হওয়া অসম্ভবও নয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক আচরণ বদলাতে পারলে ট্রাফিক জ্যাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
উপসংহার
ট্রাফিক জ্যাম কোনো একদিনে তৈরি হয়নি, একদিনে সমাধানও হবে না। তবে সরকার, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ—তিন পক্ষ একসাথে কাজ করলে “জ্যামে আটকে থাকা শহর” থেকে আমরা “চলমান শহর”-এ রূপ নিতে পারি।
সময় বাঁচলে দেশ এগোয়। এখন সিদ্ধান্ত আমাদের।
